ঢাকা সিটি কলেজ – আন্দোলনের আদ্যোপান্ত

ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৬
৯১০ Views

Untitledশিশু সাংবাদিক শিহাব আল মামুন এর ফেইসবুক প্রোফাইল থেকে হুবহু নেয়া-

ঢাকা সিটি কলেজ ট্রাজেডিঃ

আমি নিজেও সিটি কলেজের ছাত্র । পরীক্ষা কেন্দ্র দিয়ে আন্দোলনের পক্ষে বা বিপক্ষে কোন কথাই বলব না । একজন সাংবাদিক হিসেবে নিজের মতামত বলছি। কারো কাছে খারাপ লাগতেই পারে । কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলছি না। কেউ মনে কষ্ট পেলে নিজগুনে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।

একজন সাংবাদিক হিসেবে আমিই বোধহয় সকাল এগারোটা থেকে রাত পর্যন্ত স্পটে থেকেছি । শিক্ষার্থী , পুলিশ , শিক্ষক , অধ্যক্ষ সবার সাথেই মোটামুটি এ ব্যাপারে কথা হয়েছে ।

পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন নিয়ে এতো বড় কিছুই হত না । এই আন্দোলনও শিক্ষার্থীরা করতনা । এটা করার মূল কারন হচ্ছে দু’বছরের ক্ষোভ, অভিমান , দুঃখ । আমাকে প্রশ্ন করা হতে পারে কেন এটা বলছি ? হ্যা, দুপুরের দিকে প্রায় গোটা বিশেক গোল হয়ে রাস্তায় বসে থাকা শিক্ষার্থীদের মাঝে যেয়ে তাদের মতামত শুনতে চাইলাম । তাদের বক্তব্য অনেকটা এরকম – ‘’ কলেজে ১৬ ব্যাচের কোন নবীনবরণ হয় নি , তাদের কোনধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা খেলাধুলারও আয়োজন করা হয় নি । খেলাধুলার আয়োজন এ বছর এসে ১৭ ব্যাচের সাথে করা হয়েছে । এর মধ্যে বেশ কিছু অনুষ্ঠানের জন্য নাকি টাকাও নেয়া হয়েছে কিন্তু গতবছর কোন অনুষ্ঠান হয়নি । এমনকি তাদের জন্য বিদায়ী কোন অনুষ্ঠানের জন্যও আয়োজন করা হয় নি । পাশের কলেজ সমূহের যখন বিভিন্ন অনুষ্ঠান কিংবা পিকনিকে যাওয়ার ছবি আর স্ট্যাটাসে ইন্সটাগ্রাম আর ফেইসবুক ভরপুর তখন সিটি কলজের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া কোন কিছু করার থাকেনা । এছাড়া কলজের অতিরিক্ত শাসন, নিয়মকানুনের জন্যও তারা ডীস্টার্বড থাকতো । কলেজের শিক্ষকগন তাদের ছাত্রের তুলনায় ব্যবসার পণ্য বানিয়ে ফেলেছে। আগের দিনের শিক্ষকদের মত স্নেহ মমতা দিয়ে তারা পড়ান না ।ঠিক একই সময় তাদের পার্শ্ববর্তী কলেজ সমূহের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন করা গেলে তাদের নিজেদের কলেজের কেন পরিবর্তন করা যাবে না । সব দিক থেকেই কি শিক্ষার্থীরা বঞ্চিতই রয়ে যাবে ‘’

এটা ছিলো তাদের মতামত । কিন্তু শাসনের বেলায় আমি বলব ছাত্র মানুষ করার জন্য যে ধরনের শাসনের প্রয়োজন সিটি কলেজে তা আছে । হ্যা, আমাকেও একদিন গালে হাত দিয়ে ক্লাসে বসে থাকার জন্য আমার মানসিক কাউন্সেলিং এর জন্য গার্ডিয়ান আনতে বলা হয়ে ছিলো , যদিও নিয়ে যাইনি । তবে এটা এক্সেপশনাল। এটাও ঠিক সিটি কলজে ভালো পড়ানো হয় । শিক্ষার্থীরাও মেধাবী । তবে কলেজে একজন শিক্ষার্থীর সঠিক বিনোদনের ব্যবস্থা নেই । যাও আছে সেটা শুধু লাইব্রেরী । সবার সব সময় সেখানে যাবার সুযোগ হয় না। শিক্ষার পাশাপাশি যে সঠিন বিনোদন ও কাউন্সেলিং এরও প্রয়োজন রয়েছে সেটা এখন দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ভুলে গিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকও নজর দেয়া উচিত ।

রাগ , ক্ষোভ, দুঃখ, মানিসিক চাপে মানুষ অনেক কিছুই করে । সব দিক মিলিয়ে প্রেসার কুকারে কুকারাইজড হয়ে গতকালের মত এতোবড় একটি বিষ্ফোরন হয়েছে । সব শেষে নিজেদের কলেজের ভেতরে এবং বাহিরেই লাঠিচার্জ করা হয়েছে । এটা না করা হলেও পারত। কারন তারা কলেজের সম্পদ নষ্ট করতে যায়নি । গিয়েছিলো অধ্যক্ষ্যের সাথে কথা বলতে । যদিও এই কাজ কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতিতেই করা হয়েছে । লাঠিচার্জ এবং ভাংচুর কোনটাই উচিত হয় নি । একটি অপরটির পরিপূরক। এর মূলে রয়েছে দু’বছরের ক্ষোভ, অভিমান । প্রেসার কুকারের প্রেসার একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিলো বোধহয় । চাপ সহ্য করতে না পেরে বিস্ফোরিত হয়েছে । এটা কোন জাতীয় আন্দোলন ছিলো না । তবুও কেন এতবড় আকার নিবে ??? একটু কি ভেবে দেখা দরকার নেই ? মানসিক চাপ তাদের এধরনের কাজ করতে বাধ্য করেছে ।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পাশাপাশি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিপূর্ণভাবে বেড়ে ওঠার সঠিক পরিবেশ এর ব্যবস্থা করে দেয়া হোক ।আমি মনে করি সঠিক পরিবেশের মধ্যে মেধা বিকশিত করার সুযোগ দিলে এধরনের ঘটনার কখনোই পূনরাবৃত্তি ঘটবে না । কথা উঠতেই পারে মুক্তি যুদ্ধের আগ থেকে চালু করা প্রতিষ্ঠানে এতো দিন যখন কিছু হয়নি এখন কেন হবে ? হুম হবে কারন যুগ পাল্টাচ্ছে মানসিকতাও পাল্টাচ্ছে । মানসিকতার মূলে রয়েছে পরিপুর্ন মেধা বিকাশের সুযোগ ।

হাজারো মিডিয়ার খপ্পরে আসল ঘটনা রটনায় পরিণত হয়েছে। অনেকেই সত্যি ঘটনা এবং আমার নিজের মতামত ইনবক্সে জানতে চেয়েছিলেন । সময়ের অভাবে জানাতে পারিনি । এজন্য আমি দুঃখিত ।

নিউজ লিঙ্কঃ
১. http://childrentimes24.com/7n0Qx ( প্রথম দিন)
২. http://childrentimes24.com/9muyn ( দ্বিতীয় দিন

 

Leave A Comment