স্বপ্নে পাওয়া প্রযুক্তিতে তৈরী হচ্ছে ফাস্ট প্রিন্ট সাউন্ড কার্ড !

চিল্ড্রেনটাইমস-

মিরপুর প্রতিবেদকঃ

‘’ ঘুরে আসাউন উরন্ত হাওয়াই ট্রেনে, শুনে আসুন সোনালি দিনের গান । এ গান পাখির মত ওড়ে, ছবির মত নাচে গায় । মনের ভেতর গান  বাজায় । ‘’   রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বার এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চক্র এরকম কিছু  বুলি মুখস্ত  করে হাওয়া-ই বাংলা ফাস্ট প্রিন্ট সাউন্ড কার্ড বিক্রি করে আসছেন বেশ কয়েক মাস ব্যাপি ।12695959_1156614977689793_1780036545_n

বিক্রেতাদের দাবি এক যুগের বেশি সময়ের ফলাফল এ সাইন্ড কার্ড ( মূলত মেমরী কার্ড )। এটির আবিষ্কারক ‘’ হাওয়াই বাসার’’ যিনি এ যন্ত্র তৈরী করার ফর্মূলা স্বপ্নে লাভ করেন।  এর গান  ত্রিমাত্রিক ভাবে শোনা যায় । এমনকি ব্যবহারকারী যে দিকে নজর বা মন দিবে গানের মোশন সে দিকেই বর্ধিত হবে । অর্থাৎ যদি কেউ মনে করে যে গানটি দূর থেকে ক্ষীন গলায় শোনা যাবে তাহলে ঐগান দূর থেকে শোনার মত  করেই ব্যবহারকারীর কানে ভেসে আসবে । আবার কাছে থেকে শোনার কথা মনে করলে ঐ গান জোরে শোনা যাবে ।

এ মেমরী কার্ডগুলো  বিক্রি করার সময় বিক্রেতাগন এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন ।  তারা কম্পিউটারে বিভিন্ন  সফটওয়ারের মাধ্যমে পুরানো দিনের গান গুলোর ইকোলাইজার  পরিবর্তন করে বর্তমানের জাজ কিংবা রক ইকোলাইজারে পরিবর্তিত করে নিয়েছেন । যখন ক্রেতা তাদের কাছে গান শুনতে যান, তারা পুরোনো আমলের আসল সুর –বাজনার গানশোনা এরপর তারা তাদের নিজেরদের রিমিক্স / বাজনা/ ইকোলাইজার  পরিবর্তিত গান গুলো শোনান।  নিজেদের তৈরী গান গুলো শোনানোর সময়  তারা বিভিন্নভাবে  ক্রেতাদের সামনেই হাতসাফাই করে প্রমান করে দেন যে তাদের তৈরি প্রযুক্তিই সঠিক ।  মূলত অনেক পুরোনো ধাচের নাম করা শিল্পীদের গানের রেকর্ড থেকে রিমিক্স ব্যবহার করে তারা ।

12648199_1156612704356687_1400881889_n

বাস্তবিক অর্থে এধরনের সাউন্ডকার্ড বলতে কিছু নেই । এটি একটি অতি নিম্নমানের চায়না থেকে আমদানীকৃত মেমরী কার্ড । তাতে পুরোনো দিনের গানের সুর –বাজনা পরিবর্তন করে, সে গান ঐ মেমরী কার্ডে  প্রবেশ করিয়ে এর নাম দেয়া হয়েছে হাওয়া-ই বাংলা ফাস্ট প্রিন্ট সাউন্ড কার্ড।12648147_1156612737690017_669426780_n

এ প্রসঙ্গে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী তৃতীয় বর্ষের ছাত্র হিমেল ঐ বিক্রেতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলে , ‘’ বিক্রেতা বলেন, ‘’এধরনের একটাগান বানিয়ে লিফলেটে লিখা ফোন নাম্বারে ফোন দিতে, যদি হুবুহু একই রকম হয় তাহলে পাচঁ লক্ষ টাকা পুরষ্কৃত করা হবে ।”

এতে করে সাধারন মানুষজন বিভ্রান্তিতে পরছেন ।  অর্ধ শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মানুষজন সরল বিশ্বাসে এসব ভুয়া জিনিস কিনে হামেশাই ঠকছেন।

এসব গান পাইরেসি এবং নকল ভুয়া সামগ্রী বিক্রি বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকার জনগণ ।

Leave A Comment